logo
আপডেট : ১০ মে, ২০২৬ ১৬:৪৫
আজ শুরু পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ শুরু পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬

.

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ রোববার শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। চলবে ১৩ মে পর্যন্ত।

সরকারি নির্দেশনায় এবার পুলিশ সপ্তাহে ব্যয় সংকোচনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগে সাত দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন হলেও এবার তা কমিয়ে চার দিনে আনা হয়েছে। কমানো হয়েছে আলোকসজ্জা ও আপ্যায়নের আনুষ্ঠানিকতাও। পাশাপাশি সিভিল সোসাইটির সঙ্গে প্রথাগত মতবিনিময়ের পরিবর্তে এবারের আয়োজনের মূল গুরুত্ব থাকছে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।

এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে পুলিশ বাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তাই জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এখন সরকারের অগ্রাধিকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের যথাযথ আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুলিশকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

পুলিশ সপ্তাহে প্রতিবছরের মতো এবারও বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরছেন। গত বছরের সাত দফা দাবির কোনোটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবার নতুন করে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষায়িত ইউনিট গঠন, পুলিশ মেডিকেল সার্ভিস চালু, সিলেট ও বরিশালে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, ক্রীড়া সক্ষমতা বাড়াতে স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত অভিযানের জন্য বিশেষায়িত এভিয়েশন পুলিশ ইউনিট গঠন।

পুলিশের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে কীভাবে কার্যকর টহল ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যায়, সেটিই এবারের ‘পুলিশ দরবারে’ আলোচনার প্রধান বিষয়। পাশাপাশি কিশোর গ্যাং, মাদক সিন্ডিকেট ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

তাঁরা আরও বলেন, থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ছাড়াই জিডি বা মামলা করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পুলিশ বাহিনী সত্যিকার অর্থে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে পারলে তবেই পুলিশ সপ্তাহের মূল উদ্দেশ্য সফল হবে।


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com