logo
আপডেট : ৮ আগস্ট, ২০১৮ ১৭:৫৯
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রশংসায় কমনওয়েলথ মহাসচিব
নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রশংসায় কমনওয়েলথ মহাসচিব

গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটে এত মানুষকে মানবিক সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশ উদারতার পরিচয় দিয়েছে। এটি প্রশংসনীয়। এই সংকট সমাধানে কমনওয়েলথ সনদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’

বুধবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটিজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত কমনওলেয়থ বিষয়ক এক  সেমিনারে বক্তব্য দেন সংস্থাটির মহাসচিব।

কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু কমনওয়েলথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সমস্যার সমাধানে কমনওয়েলথ সনদ মেনে কাজ করলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করা সম্ভব।’

বাণিজ্য বাড়াতে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর জন্য ২০২০ সালের মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের উদ্যোগ নিয়েছে কমনওয়েলথ। মহাসচিব বলেন, ‘কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর জন্য ২০২০ সালের মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাণিজ্যের জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ আমরা আমাদের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য আরও বাড়াতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা।’

প্যাট্রিসিয়া বলেন, ‘কমনওয়েলথকে শক্তিশালী করতে হবে। কারণ এই সংস্থাকে শক্তিশালী করতে পারলে সদস্যভুক্ত ৫৩ দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বাড়বে। এটা করতে হলে আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।’

এ সময় প্যাট্রিসিয়া কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর জন্য কমনওয়েলথের ইনোভেশন ফান্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও জানান। বলেন, ‘আমরা কমনওয়েলথের ইনোভেশন ফান্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহ করা, যেটা দিয়ে আমরা এই সংস্থার ফান্ড পরিচালিত করব।’

‘কমনওয়েলেথের উপযোগিতা: অগ্রগতি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ছিলেন বিশেষ অতিথি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ আলী বলেন, ‘কমনওয়েলথকে আরও শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। অভিবাসন, নারীর ক্ষমতায়ন, সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কমনওয়েলথ কাজ করে এটা সত্যিই ভালো দিক। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটাকে নিয়ে আরও কাজ করা দরকার বলে আমি মনে করি। উন্নয়নের স্বার্থে কমনওয়েলথ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।’

এ সময় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর জন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন মাহমুদ আলী।

সেমিনারে বিআইআইএসএস এর চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘এমডিজি এবং জাতিসংঘের ২০৩০ উন্নয়ন কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে কমনওয়েলথের সামনে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু বাধা-বিপত্তিও রয়েছে। এই বাধাগুলো কাটিয়ে ওঠার মাধ্যমে সংস্থাটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সবার অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএস মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আব্দুর রহমান। বলেন, ‘কমনওয়েলথ এর সংস্থাগুলো বাণিজ্য আলোচনা, নারীর ক্ষমতায়ন, যুবসমাজের অংশগ্রহণ, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশসহ একাধিকভাবে সদস্য দেশকে সহায়তা করছে।’


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com