মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা এ দেশীয় দোসর রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ ও তাদের নাগরিক অধিকার সংকোচনের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে রাজাকারদের বংশধরদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
শুক্রবার বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রজন্ম চত্বরে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সংগঠন গৌরব ৭১ এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্য হাজেরা সুলতানা, তুরিন আফরোজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী, আওয়ামী লীগের শিক্ষা উপ-কমিটির সদস্য নুরজাহান আক্তার সবুজা, গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, কবি ও লেখক আসলাম সানি, নারীনেত্রী মাসুদা খানম মেধা প্রমুখ এ সময় বক্তব্য দেন।
সভাপতিত্ব করেন গৌরব ৭১ এর সভাপতি এস এম মনিরুল ইসলাম মনি এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন।
সমাবেশে প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-
১. যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব বাতিল ও তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
২. ভিয়েতনামের মত দেশদ্রোহীদের অধিকার সংকুচিত আইন জারি করতে হবে।
৩. প্রশাসনে রাজাকারদের বংশধরদের অনুপ্রবেশ আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।
৪. যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইয়াসিন আলী বলেন, ‘যেদেশে দীর্ঘ সময় পরেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব হয়েছে, সেদেশে রাজাকারদের তালিকা করা মোটেও অসম্ভব কিছু নয়। আর এ তালিকা করা গেলে বোঝা যাবে কারা এদেশের বন্ধু আর কারা শত্রু।’
‘শিশু-কিশোরদের নিরাপদ সড়কের যৌক্তিক আন্দোলনেও রাজাকারের দোসররা ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। রাজাকারের তালিকা করে এদের চেহারা প্রকাশ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’
সংসদ সদস্য হাজেরা সুলতানা বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও আমরা রাজাকারদের নিয়ে কথা বলছি। তাহলে এতো বছর আমরা কী করেছি? জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাবিরোধী গোলাম আযমদের এদেশে এনেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দিয়েছেন। এমনকি তাদের এমপি-মন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়েছেন। আর এসব কারণে এখনো এদেশে রাজাকাররা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি রাজাকারদের সন্তানরা আজকে এদেশের বিরুদ্ধে লেগেছে।’
‘কোটা আন্দোলনের সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল চেয়ে রাজাকারদের সন্তানরা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করেছে। শিশুদের আন্দোলনেও গুজব ছড়িয়ে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করেছিল রাজাকারের দোসররা।’
রাজাকারের দোসররা এদেশের কোনো ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য তাদের নাগরিক অধিকার সংকোচনের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করার কথা জানান এই সংসদ সদস্য।
আইনজীবী তুরিন আফরোজ বলেন, ‘অনেকে বলেন রাজাকারদের বংশধররা কেন তাদের পূর্ব পুরুষের কৃতকর্মের জন্য শাস্তি পাবে? আমি বলতে চাই, আপনারা দেখেন, এদেশ বিরোধী যেকোনো চক্রান্তে রাজাকারের দোসরদের যোগসূত্র রয়েছে। এরাই হচ্ছে নব্য রাজাকার। সাপের বাচ্চা সাপ হয়।’
‘ভিয়েতনাম যদি রাজাকারদের অধিকার সংকুচিত করতে পারে, তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশ কেন রাজাকারদের অধিকার সংকুচিত করতে পারবে না?’
সমাবেশের সঞ্চালক গৌরব ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন বলেন, ‘আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে হলে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা অতীব জরুরি।’
বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, ‘এদেশের মানুষ দুইভাগে বিভক্ত। এদের একপক্ষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, আরেক পক্ষ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। আর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা এখন পর্যন্ত এদেশকে মেনে নিতে পারেনি। তারা যেকোনো ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।’
‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী রাজাকারদের বাড়িগুলোতে আলাদা রঙ দেয়া উচিত। যাতে সাধারণ মানুষ সেই রঙ দেখে তাদের দিকে ঘৃণার চোখে তাকায়।’