logo
আপডেট : ২৯ আগস্ট, ২০১৮ ১০:৫৩
ইভিএম নিয়ে ইসিতে মতভিন্নতা
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইভিএম নিয়ে ইসিতে মতভিন্নতা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর বিরোধী মত রয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে।

তবে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোই নয়, খোদ নির্বাচন কমিশনেও আছে মতভিন্নতা। একজন কমিশনার আগামীকালের বৈঠকে এ ব্যাপারে লিখিত আপত্তি জানাবেন। ইতিমধ্যে তিনি নোটও তৈরি করেছেন।

জাতীয় নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ৩০ আগস্ট কমিশন সভায় আরপিও সংশোধন-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর সেটা ভেটিংয়ের (যাচাই-বাছাই) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। আইন পাস হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবে কমিশন। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি না।

তবে আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে ইভিএম ব্যবহার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে একজন নির্বাচন কমিশনার ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। একটি সূত্রে ঢাকাটাইমস এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

সেই নোটে নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, গত ২৬ আগস্ট আরপিও সংশোধনের জন্য কমিশন সভায় তিন ধরনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সেদিন দুটি প্রস্তাব বাদ দিয়ে কেবল একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত কমিশন সভা মুলতবি করা হয়।

স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ইতিমধ্যে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রথম থেকে বলে আসছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হলে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে। সরকারে পক্ষ থেকে স্বাগত জানালেও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ থেকে বিরোধিতা করা হয়েছে। এজন্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অধিকতর আলোচনা করা প্রয়োজন।

নোটে বলা হয়, সম্প্রতি ইভিএমের জন্য যে প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৮২১ কোটি টাকা। কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার  মুখে আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার যেখানে অনিশ্চিত সেখানে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে ক্রয় করা কতটা যৌক্তিক।

ইসিতে ইভিএমের প্রস্তুতি

ইসি সূত্রে জানা যায়, ইসি যে চাহিদাপত্র দিয়েছে তাতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনে ইভিএম প্রয়োজন দুই লাখ ৬৪ হাজার। ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে একসঙ্গে ভোটগ্রহণ করতে গেলে ইভিএম প্রয়োজন ২৩ হাজার। একইভাবে দেশের ১১ সিটিতে একসঙ্গে ভোটগ্রহণ করতে গেলে ইভিএম লাগবে ৩৫ হাজার। ৩২৩ পৌরসভায় এই পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করতে হলে ইভিএম লাগবে ৩৫ হাজার।

ইসির তথ্য অনুসারে, দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা চার হাজার ৫৫৫টি। এসব ইউপিতে একসঙ্গে ভোটগ্রহণ করতে ইভিএম লাগবে তিন লাখ ১৮ হাজার ৫০০টি। তবে এ ক্ষেত্রে ইসি ভিন্ন পরিকল্পনা করেছে। পর্যালোচনাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইউপি নির্বাচন কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। ইতোপূর্বে প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ ৭৫০টির মতো ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে একেক ধাপে ইভিএম প্রয়োজন ৫২ হাজার ৫০০।

মঙ্গলবার ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। জানুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের স্কুল শুরু হয়ে যাবে। সে সময় নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হবে। তা ছাড়া ডিসেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের ছুটি থাকে।

ইসি সচিব বলেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে ইসি। নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে ৮০ ভাগের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com