বিমসটেক অঞ্চলের দেড়শ কোটি মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে জোটভুক্ত দেশগুলোকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার নেপালের কাঠমান্ডুতে চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই জোট প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির পরও প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে বিমসটেকের সাফল্য হাতে গোনা।’
প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের মাধ্যমে জোটভুক্ত সাত দেশকে যুক্ত করার উদ্যোগসহ কয়েকটি ক্ষেত্র জোটের নেতাদের সামনে তুলে ধরেন। ফোরামের মাধ্যমে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি, সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং একটি যৌথ অর্থায়ন কৌশল প্রণয়নের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকালে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর হোটেল সোয়ালটি ক্রাউনি প্লাজার মেঘনা মালহার হলে বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও ভুটানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দাশো শেরিং ওয়াংচুক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ও-চা এতে যোগ দেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির উদ্বোধনী বক্তব্যের পর বক্তৃতা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বিশ্ব পরিস্থিতির দ্রুত বদলের বিষয়টি তুলে ধরে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার আহ্বানের কথা তুলে ধরেন।
বিমসটেক অঞ্চলে আন্তঃবাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এই সুযোগকে কাজে লাগানোর কথাও বলেন।
বিমসটেক ফোরামকে কার্যকর করতে ১৪টি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
কয়েকটি বিমসটেক দেশ ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে পরস্পরের বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে অন্যদেরও এই গ্রিডের সংযুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সন্ত্রাসকে এ অঞ্চলের সাধারণ শত্রু হিসেবে বর্ণনা করে এসব বিষয়েও একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘উন্নয়ন নির্ভর করে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর । ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা দূর করে বৈষম্যহীন সুষম উন্নয়ন নীতি নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’
শুক্রবার একটি যৌথ ঘোষণার মধ্যে দিয়ে এবারের সম্মেলন শেষ হবে।