বান্দরবানের লামা উপজেলায় ১৪ একর পাহাড় কেটে ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগ তিন মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগকেন্দ্রে (হটলাইন- ১০৬) আসা তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ আগস্ট থেকে টানা দুই দিনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দুদক। যেখানে দুদকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপর্যুপরি অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানান দুদকে উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রণব জানান, অভিযোগ আসার পরপরই দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী জেলা প্রশাসক, বান্দরবানকে পরিবেশ বিধ্বংসী এই তৎপরতা প্রতিহত করার কঠোর নির্দেশ দেন।
গত বুধবার ২৯ আগস্ট লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পুলিশের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় পাহাড় কেটে ইটভাটা প্রস্তুতের অপরাধে তিন মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
দুদকের অব্যাহত তত্ত্বাবধান ও নির্দেশের ধারাবাহিকতায় পরদিন ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুনরায় অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং অবৈধভাবে প্রায় ১৪ একর পাহাড় কাটার ঘটনা উদ্ঘাটন করা হয়। যেখানে ঘটনাস্থল থেকে তিনটি এস্কেভেটর ও এক লাখ ইট জব্দ করা হয়। একই সাথে সমস্ত যন্ত্রপাতি জব্দ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের হেফাজতে নেয়া হয়।
ওই অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পুলিশের টিম সহায়তা করেছের বলে জানান প্রণব। এছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তর দায়ীদের বিরুদ্ধে লামা থানায় পরিবেশ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মুনীর চৌধুরী জানান, ‘পাহাড় কাটার মতো পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের প্রধান কারণ দুর্নীতি। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারির অভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ ঘটছে। দুদক পাহাড় কাটার ঘটনার পেছনে দুর্নীতির উৎস অনুসন্ধান ও তদন্ত করবে, দায়ী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।‘