একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কড়া নাড়ছে দরজায়। নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের সর্বস্তরের জনগন হিসেব নিকেশ, আলোচনা, সমালোচনা, পর্যালোচনা করছে দেশের বিভিন্ন সমস্যা, সমস্যা সমাধানে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ, অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় নিজদলীয় নেতা-কর্মীদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারের ইতিবাচক দিকসমূহ জনগনের নিকট তুলে ধরতে। সেইসাথে বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিতভাবে রদবদল অব্যাহত রেখেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সৎ, দক্ষ, মেধাবী এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তিকে বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর ভূঁয়সী প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে চলেছেন দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সাথে। সাম্প্রতিক সময়ে যুবসমাজ তথা দেশের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দেখা দেওয়া ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের দমন করে এবং জঙ্গি কার্যক্রমের নেটওয়ার্ক গুড়িয়ে দিয়ে জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে, তিনি সকল পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে অপরাধ দমনে ঈস্পাতসম দৃঢ়তায় যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তা আশা জাগানিয়া। তার যুগোপযোগী পদক্ষেপের কারণে পূর্বের যে কোনও সময়ের চেয়ে বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো। যার প্রভাব পড়েছে এদেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনযাত্রায়। সাধারণ আমজনতা এখন পুলিশকে তাদের প্রকৃত বন্ধু ভেবে, বিভিন্ন জরুরী প্রয়োজনে নির্দ্বিধায় পুলিশের সহযোগীতা গ্রহন করে উপকৃত হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর সুনাম বিনষ্টকারী কতিপয় স্খলিত, অর্থলোভী, নৈতিকতা বিবর্জিত সদস্যদের নিকট মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত, আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল তার দায়িত্বভার গ্রহন করার পর দেশের প্রতিটি থানায় ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। প্রতিটি থানার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে জনসাধারণের অপরাধ প্রবণতা কমে যাবার সুখবর। ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগক্ষেত্র, শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগে সুফল দেখা দিয়েছে। ফলে বহিঃর্বিশে^ বাংলাদেশের সুনাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে উদ্ভূত বিচ্ছিন্ন ঘটনায় দেশে অরাজক পরিবেশ বিরাজমান করা থেকে, দেশ ও জনগনকে নিরাপদ রেখে গনতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে নিরলস কাজ করে যাওয়ায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে ভরসা ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে ১২ জানুয়ারী ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তার দক্ষতা, যোগ্যতা এবং দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৪ জুলাই ২০১৫ তারিখে তাকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হয়। একজন সফল সংগঠক হিসেবে নিজ দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে যেভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ঠিক তেমনিভাবেই দেশ ও দশের কল্যাণে লোভ ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেকে করে তুলছেন স্মরনীয়, বরণীয়। তিনি সম্প্রতি বহুল আলোচিত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও জাতিসংঘে টেকসই শান্তি সম্মেলনসহ বহু আন্তর্জাতিক সেমিনাওে নের্তৃত্ব দেয়া ছাড়াও বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রেখে বিশে^র দরবারে বাংলাদেশকে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে সমর্থ হয়েছেন। রাজনীতির পাশাপাশি একজন সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, কর্মক্ষেত্রে পুরুষ পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি নারী পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করে তাদেরকে আরোও অধিকহারে পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পক্ষপাতী হওয়ায়, নারী সদস্যরাও উৎসাহিত হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও কৃতিত্বের সাথে শুধু দেশেই নয় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। যা আমাদের সকলের জন্যই অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। বাংলাদেশ পুলিশের সামর্থ কম থাকলেও সফলতাকে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে, আগামীতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করে, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০১৮-২০২০ অব বাংলাদেশ পুলিশ’ বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহŸানের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা উপমহাদেশে বিরল। স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়গামী ছাত্রীসহ কিশোরী,যুবতী, নারীদের ইভ টিজিংয়ের হাত থেকে রক্ষাকল্পে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গৃহিত ফলপ্রসূ বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে, নারীরা আজ অধিকতর নিরাপদ পরিবেশে, স্বাচ্ছ্যন্দে চলাফেরা করতে পারছে। তিনি যেনো নেপোলিয়নের মতো এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। তিনি সরকারের চলার পথকে রেখেছেন মসৃণ এবং কণ্টকমুক্ত, দেশবাসীকে উপহার দিয়েছেন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ।