logo
আপডেট : ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:১৮
হাওরে অধিকার নেই জেলেদের
প্রথম বাংলাদেশ ডেস্ক

হাওরে অধিকার নেই জেলেদের

বছরের ছয় মাস শুষ্ক মৌসুমে বোরো ধানের চাষাবাদ আর বর্ষার বাকি ছয় মাস হাওরে মাছ ধরেই জীবন চলছিল জেলেদের। বংশপরম্পরায় এটাই ধারা সেখানে। কিন্তু ইজারাদার আর প্রভাবশালীরা এখন জলমহালগুলোতে নামতে না দেয়ায় বেকার হয়ে পড়ছেন তারা।

এর ওপর আগের মতো মিঠাপানির মাছও মিলছে না নদী-হাওরে। ফলে দুর্বিষহ মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ১১টি উপজেলার ৮৬ হাজার মৎস্যজীবী পরিবার।

সরেজমিনে জানা গেছে, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই-শাল্লাসহ ১১টি উপজেলার ৮২টি হাওরে ৯৭৬টি জলমহাল রয়েছে। কিন্তু সবগুলো হাওর ও জলমহালই অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাস জেলার স্থানীয় ইজারাদার ও প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভরা বর্ষায় মাছ ধরতে না পেরে নিজেদের নৌকা ও জাল ডাঙায় তুলে রেখেছেন প্রকৃত মৎস্যজীবীরা।

জেলেরা জানান, বংশপরম্পরায় বছরের পর বছর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তারা। কিন্তু ইজারাদারদের বাধায় হাওর-নদীতে মাছ ধরতে নামতে পারছেন না এখন। সরকারি সহায়তাও না পাওয়ায় তাদের জীবন-জীবিকা প্রায় বন্ধের পথে।

হাওরবাসী ও বেকার জেলেদের ভিজিএফের আওতায় আনা ও উন্মুক্ত হাওরে মাছ ধরার দাবি কাজে না আসায় পরিস্থিতি আরও প্রতিকূলে চলে যাচ্ছে।

বেকারত্ব আর অভাব-অনটনে সন্তানদের লেখাপড়া চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের।

কেউ কেউ বাঁচার তাগিদে বাপ-দাদার পেশা ও এলাকা ছেড়ে জেলা বা বিভাগীয় শহরে গিয়ে রিকশা চালানোসহ অন্যান্য কাজে জড়াচ্ছেন।

প্রকৃত মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘মিঠা পানির সুস্বাদু ছোট ছোট মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে দিন দিন। হাওরাঞ্চলের বাজারগুলোতে এখন সেসব মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মিলছে কেবল পাঙ্গাস আর সিঁদল। কেননা, ইজারাদাররা জলমহালগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে মাছ ধরছেন। এটি নিষিদ্ধ হলেও মানছেন না তারা। আবার আমাদেরও জলমহালে নামতে না দেওয়ায় বাজারে যে সামান্য মাছ পাওয়া যায়, তার দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিনে খেতে পারছেন না।’

ব্যবসায়ীরাও বলছেন, দু-তিন বছর আগেও হাওরে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। তারা বেচাকেনা করে লাভবান হতেন। কিন্তু এখন মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। যাও সামান্য পাওয়া যায়, তা দিয়ে নিজেদেরই চলে না।’

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ইজরাদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় হাওর ও জলমহালগুলো উন্মুক্ত নেই। কঠোর নিরাপত্তা আর মাছ ধরতে বাধা থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না, তারা আতঙ্কে আছেন। তাদের স্বার্থে কার্যকর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া খুবই প্রয়োজন।  

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, ‘ইলিশ অঞ্চলের মতো হাওর এলাকাকেও ভিজিএফের আওতায় আনতে সভা-সেমিনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিকল্প আয় ও কাজের ব্যবস্থাও নেওয়া প্রয়োজন অক্টোবর থেকে।’

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও মৎস্যমন্ত্রীর নজরে আনব। প্রকৃত মৎস্যজীবী ও ভুক্তভোগী এবং মাছেনির্ভর করে যারা বাঁচেন, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

 

প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com