দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) প্রক্টর অধ্যাপক খালেদ হোসেন ও ছাত্র পরামর্শক অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম এবং ৪ জন ছাত্রসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে মহিলা শিক্ষককে লাঞ্চিত, ছিনতাই ও অন্যান্য শিক্ষকদের মারধর করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) বিকালে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় মামলাটি করেন সহকারী অধ্যাপক হাসান জামিল।
অপরদিকে আগামী ২৪ নভেম্বর কর্মকর্তা ও ১ ডিসেম্বর প্রভাষক পদের লিখিত নিয়োগ পরীক্ষা অনিবার্য কারণ বশত স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে ইনক্রিমেন্টের দাবিতে পদোন্নতি প্রাপ্ত ৫৭ জন শিক্ষকরা ইনক্রিমেন্ট পাবেন না এবং যাদের ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়েছে তা কর্তন করার জন্য হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।
তবে হাবিপ্রবি‘র ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরা ৬ দফা দাবিতে ও পদোন্নতি প্রাপ্ত ৫৭ জন শিক্ষকরা ইনক্রিমেন্ট প্রদানের দাবিতে তাদের চলমান আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার সময় ট্রেজারারের কক্ষে পদোন্নতি প্রাপ্ত ৫৭ জন শিক্ষক কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারকে তার কক্ষে তাদের ইনক্রিমেন্ট নিয়ে আলোচনা করতে যান। এ সময় প্রক্টর অধ্যাপক খালেদ হোসেন ও ছাত্র পরামর্শক অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম, মাৎস্য অনুষদের মাষ্টার্সের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম রবি, মহিউদ্দিন নুর, ফুড প্রসেস এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষার্থী মোর্শেদুল আলম রনি ও এগ্রিকালচার অনুষদের শিক্ষার্থী স্বপন কুমার বর্মণসহ অজ্ঞাত নামা ৬০ জন ছাত্র রামদা, চাপাতি ও হকিষ্টিক নিয়ে ট্রেজারারের কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষকদেরকে এলোপাথারী মারধর করে। এ সময় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাবরিন মোস্তাফিজ কে টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়। তার গলায় থাকা এক ভোরি ওজনের স্বণের চেইন ছিনিয়ে নেয়া হয়। রামদা, চাপাতি ও হকিষ্টিকের আঘাতে রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহসীন আলী মিঠু, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহিদ সুলতানা ও মাৎস্য অনুষদের সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় আহত হন। এ সময় ঘটনা স্থলে গেলে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান জামিলকেও হুমকি প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান জামিল বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রেদওয়ানুর রহিম মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে আগামী ২৪ নভেম্বর কর্মকর্তা ও ১ ডিসেম্বর প্রভাষক পদের লিখিত নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবি অচলবস্থার কারণে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে ইনক্রিমেন্টের দাবিতে পদোন্নতি প্রাপ্ত ৫৭ জন শিক্ষকরা ইনক্রিমেন্ট পাবেন না এবং যাদের ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়েছে তা কর্তন করার জন্য হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।
তবে হাবিপ্রবি‘র ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরা ৬ দফা দাবিতে ও পদোন্নতি প্রাপ্ত ৫৭ জন শিক্ষকরা ইনক্রিমেন্ট প্রদানের দাবিতে তাদের চলমান আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এ ধরণের চিঠি দেয়ার কোন বৈধতা নেই। আমরা ইনক্রিমেন্ট পাবো।
এ ঘটনায় রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক শফিউল আলম বলেন, ইউজিসি থেকে চিঠি পেয়েছি। বর্ধিত বেতন দেয়া সম্ভব নয়। আর হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেউ আহত হয়নি।