logo
আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:০৭
মুখে কালো কাপড় বেঁধে সাংবাদিকদের অবস্থান কর্মসূচি পালন
প্রথম বাংলাদেশ ডেস্ক

মুখে কালো কাপড় বেঁধে সাংবাদিকদের অবস্থান কর্মসূচি পালন

দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে ছাত্রলীগের একাংশ। একই সঙ্গে হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতিকে মামলার আসামি করায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি।

রবিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার সময় এই কর্মসূচি ছাত্রলীগের পাশাপাশি শিক্ষকদের সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক পরিষদসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শক ও শিক্ষক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা মোস্তফা তারেক চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার ফরহাদ, চয়নিকা ব্যানার্জী, এস আর সৈকত ও রিয়াদ খান প্রমুখ।

ছাত্রলীগ নেতারা বক্তব্যে বলেন, এক সময় যারা বিএনপি জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করেছে তাদেরকে আমাদের বিরুদ্ধে মামলায় স্বাক্ষী বানানো হয়েছে। তারা বলেন, বিএনপি জামায়াতের কিছু সংখ্যক শিক্ষক নির্বাচনের আগে ক্লাস পরীক্ষা না নিয়ে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সেশন জোটের সম্মুখীন হচ্ছে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

ছাত্রলীগ নেতা তারেক চৌধুরী বলেন, অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা যদি ক্লাসে ফিরে না যায় তাহলে বিকল্প উপায়ে তাদেরকে ক্লাসে ফেরার হুমকিও প্রদান করেন তিনি।

এদিকে ছাত্রলীগের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষকদের সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক পরিষদ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রফেসর ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. মো: ফজলুল হক বক্তব্য প্রদানকালে বলেন ‘শিক্ষার্থীদেরকে এভাবে জিম্মি করে আন্দোলন করা অন্যায়। এর ফলে তাদের শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত শিক্ষকদেরকে ক্লাসে ফিরে যাবার আহবান জানান। এ সময় তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নামে এভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করা গোটা শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জার।’

দিকে হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দীন নুরকে মামলার আসামি করায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে দুপুর ১২টা থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা। এ সময় তারা সাংবাদিকতায় ব্যবহৃত খাতা, কলম, প্যাড, ক্যামেরা সামনে রেখে এই কর্মসূচি পালন করেছে।

হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের নামে এরুপ মিথ্যা মামলা সাংবাদিক সমাজের জন্য হুমকি স্বরুপ। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি এমন সাজানো মামলার স্বীকার হতে হয় তবে বিষয়টিকে সাংবাদিক সমাজের কণ্ঠরোধ করার ঘৃন্য ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন তারা।

উল্লেখ্য গত ১৪ নভেম্বর বিকাল ৪টায় সদ্য পদোন্নতিপপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপকবৃন্দ প্রদেয় বর্ধিত ইনক্রিমেন্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কোষাধ্যাক্ষ বিধান চন্দ্র হালদারের সাথে আলোচনা করার জন্য তার কক্ষে প্রবেশ করেন। কোষাধ্যাক্ষ বিধান চন্দ্র হালদার বর্ধিত ইনক্রিমেন্ট সুবিধা প্রদান করা হবে না জানালে সহকারী অধ্যাপকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ঠিক সেই সময় কোষাধাক্ষ্যের কক্ষে প্রবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা ও রেজিস্ট্রার এবং কতিপয় শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় লাঞ্ছিত শিক্ষক হাফিজ আল হোসেন ও ফাতিমা ফারহানা লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে ঘটনাটি অবহিত করেন এবং পরের দিন হতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে প্রক্টর ছাত্র উপদেষ্টা ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন পরেই সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাসান জামিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা ও ৪ শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাত নামা ৫৪ জনকে আসামি করে কতোয়ালী থানায় শ্লীলতাহানীর মামলা দায়ের করেন।


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com