logo
আপডেট : ৫ মার্চ, ২০১৯ ১১:৩৬
সেই ইয়াবা ডন আমিন হুদা ‘কৃপা’ চান
অনলাইন ডেস্ক

সেই ইয়াবা ডন আমিন হুদা ‘কৃপা’ চান

ছবি: সংগৃহীত

৭৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি ইয়াবা ডন আমিন হুদার সাজার মেয়াদ নিয়ে আদালতের কাছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবী। এ ছাড়া আমিন হুদার আইনজীবী ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড ‘মওকুফ’ চেয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাজা কমানো বা তাকে ‘কৃপা’র কোনো অবকাশ নেই বলে দাবি করা হয়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আপিল শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওইদিন শুনানি শেষে পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ মার্চ সময় নির্ধারণ করেন আদালত। ৩ মার্চের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। আসামিপক্ষে ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে জানান, দুটি মামলার বিভিন্ন ধারায় মোট ৭৯ বছরের দ- হয় আমিন হুদার। এখানে সর্বোচ্চ ১৪ বছর সাজা খাটতে হবে তাকে। সেই হিসেবে জেলকোড অনুযায়ী ট্রায়াল পিরিয়ডসহ (বিচার চলাকালীন) এখন পর্যন্ত আমিন হুদার ১৪ বছর সাজা খাটা হয়ে গেছে। গ্রেপ্তারের সময় থেকে শুরু করে রায় হওয়ার সময়কে সাজার অন্তর্ভুক্ত করে এই আপিলের নিষ্পত্তি চান আসামিপক্ষ। একই সঙ্গে দুটি মামলায় ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আর্থিক দণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সাজা মওকুফ চান।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানান, তাদের হিসাবে আমিন হুদা ১১ বছর ৪ মাস সাজা ভোগ করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে একজন শীর্ষ ইয়াবাকারবারি সাজা কমানো অথবা অনুকম্পার চোখে দেখার অবকাশ নেই। তা ছাড়া তার আর্থিক জরিমানাও মাফ না করার জন্য আদালতে আবেদন জানান। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামীকাল ৬ মার্চ বুধবার শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ আমাদের বলেন, আমরা বলেছি সাজা শেষ হয়নি এবং এর পর জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের সাজা আছে। জরিমানা তারা দেননি। তাই জরিমানার সাজা ভোগ করতে হবে। তিনি কোনোভাবে কৃপা পেতে পারেন না। কারণ তার বাড়িতে ইয়াবা তৈরির মেশিন পাওয়া গেছে। তিনি একজন ইয়াবা সম্রাট।

তিনি বলেন, ‘দুদকের আইনজীবী হিসেবে তিনি (খুরশীদ আলম খান) দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার। সরকার যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে, সেখানে তার মতো একজন আইনজীবী মাদক সম্রাটের পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়েছেন। বিষয়টি নৈতিকতারও।’ আসামি পক্ষের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান  বলেন, ‘আমাদের মোদ্দাকথা হলো উনি যতদিন সাজা খেটেছেন, সেটাকে ধরে যেন আমার আপিলটা নিষ্পত্তি করে দেন আদালত। আদালতই ওনাকে ১৪ বছরের সাজা দিয়েছেন। এসব নিয়ে একটার পর একটা আইনি যুক্তি উঠে আসে। শুনানি চলমান রয়েছে।

আদালত পরবর্তী শুনানিতে আরও আইনি ব্যাখ্যা চেয়েছেন।’ ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর গুলশানের একটি বাড়ি থেকে ৩০ বোতল ফেনসিডিলসহ আমিন হুদা ও তার সহযোগী আহসানুল হক ওরফে হাসানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশানের আরেকটি বাসা থেকে ১৩৮ বোতল মদ, পাঁচ কেজি ইয়াবা বড়ি (১ লাখ ৩০ হাজার পিস) এবং ইয়াবা তৈরির যন্ত্র ও উপাদান উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। ওই দুই মামলায় ২০১২ সালের ১৫ জুলাই এক রায়ে আমিন হুদা ও তার সহযোগী আহসানুল হককে বিভিন্ন ধারায় জরিমানাসহ মোট ৭৯ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছর ২৯ জুলাই হাইকোর্টে আপিল করার পাশাপাশি জামিনেরও আবেদন করেন আমিন হুদা।


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com