মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি লাখো মানুষকে কাাঁদিয়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে। ফেনীর সোনাগাজী মোহাম্মদ ছাবের সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে, উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের বাড়িতে দাদির কবরের পাশে নুসরাত জাহান রাফির দাফন সম্পন্ন হয় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫.৫০ মিনিটে। এর আগে ঢাকা থেকে তার মরদেহ আসার অপেক্ষায় চোখের জলে বুক ভাসিয়েছে সোনাগাজীর সর্বস্তরের মানুষ। রাফির সহপাঠী এবং স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়-বিদারক পরিবেশে সেসময় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠে। গত বুধবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকাবস্থায় মারা যান নুসরাত । জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পাঁচ দিন ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন রাফি। রাফির মরদেহ সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে। এ ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। জানাজায় পরিচালনা করেন নুসরাত জাহান রাফির বাবা একেএম মুসা।