logo
আপডেট : ২৭ মে, ২০১৯ ১২:৫৩
রেলের অগ্রিম টিকেট
শেষ দিনেও উপচেপড়া ভিড়
নিজস্ব প্রতিবেদক

শেষ দিনেও উপচেপড়া ভিড়

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির শেষ দিন গতকাল রোববার। সকাল ৯টা থেকে টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। যাঁরা গত শুক্র ও শনিবার ট্রেনের টিকেট কাটতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁরা গতকাল টিকেটের জন্য ভিড় জমাচ্ছেন। টিকেট নিতে গত শনিবার ভোররাত থেকেই অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন। অনেকে আবার গত শনিবার ইফতার করে  গতকাল রোববার ভোরে সেহরিও করেছেন স্টেশনেই। এর সঙ্গে তীব্র গরম মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়িয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির মধ্যে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন ১৩ জোড়া ট্রেনের টিকেট দেওয়া হচ্ছে। রয়েছে খুলনা, ঈশ্বরদী ও লালমনিরহাটের ঈদ স্পেশাল ট্রেন। প্রতিদিন বিক্রি করা হচ্ছে ১৪ হাজারেরও বেশি টিকেট। মোবাইলের অ্যাপে বিক্রি করা হচ্ছে প্রায় সাত হাজার টিকেট। কমলাপুর রেলস্টেশনের কাউন্টার থেকে বিক্রি হচ্ছে পাঁচ হাজার ১৫১টির মতো টিকেট।
এদিকে গতকাল শেষ দিন অপেক্ষমাণ সব যাত্রীই টিকেট পাবেন বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। কারণ, গত শনিবার রোববারের চেয়েও বেশি ভিড় ছিল, কিন্তু তাও বিকেল ৪টার মধ্যে টিকেট দিতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল সে তুলনায় ভিড় কম হওয়ায় আগেভাগেই টিকেট দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে গতকাল ভোর থেকেই টিকেটপ্রত্যাশীরা ভিড় করছেন। ৪ জুন থেকে যেহেতু সরকারি ছুটি, তাই ওই দিনের টিকেট নিতে জড়ো হয়েছেন অনেকেই। গতকাল বিমানবন্দর থেকে মূলত চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর টিকেট দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের সাতটি ও নোয়াখালীর একটি ট্রেনের টিকেট বিক্রি হচ্ছে। স্টেশনে রয়েছে চারটি কাউন্টার। এগুলোর মধ্যে তিনটি পুরুষদের ও একটি নারীদের কাউন্টার। এদিকে, চট্টগ্রাম রেলস্টেশনেও শেষ দিনের জন্য চলছে ঈদের আগাম টিকেট বিক্রি। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী পাঁচটি, সিলেটগামী দুটি, চাঁদপুরগামী দুটি, ময়মনসিংহগামী একটি ও দুটি বিশেষ ট্রেনসহ ১২টি ট্রেনের মোট সাড়ে আট হাজার টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে। প্রতিটি ট্রেনে অতিরিক্ত দুটি থেকে তিনটি বগি যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অনেকেই ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা টিকেটের জন্য অপেক্ষা করছেন। যাত্রীর তুলনায় টিকেটের পরিমাণ কম থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি অনেক বেশি। লাইনে দাঁড়িয়েই অনেক গত শনিবার ইফতার করেছেন, আবার গতকাল ভোরে সেহরিও করেছেন। সকাল ৯টা থেকে টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। এর আগে সকাল ৮টায় টিকেট দেওয়া হলেও এখন তা এক ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল ৯টায় দেওয়া হচ্ছে। ফলে টিকেটপ্রত্যাশীদের ভোগান্তিও বেড়েছে। অনেকে আগামি ঈদ থেকে আগের সময়ে টিকেট বিক্রির আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে অ্যাপের মাধ্যমে যাঁরা টিকেট সংগ্রহ করতে চাচ্ছিলেন, তাঁরা অনেকেই অসুবিধায় পড়েছেন বলে জানান। এদিকে টিকেটের কালোবাজার রোধেও কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলের টিকেটের জন্য তেজগাঁওয়ে ভোগান্তি চরমে : ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রেলের আগাম টিকেট বিক্রির শেষ দিনেও দুর্ভোগে নাকাল হতে হয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও রেল স্টেশনে আসা টিকেটপ্রত্যাশীদের। রেলের সার্ভারে বিপত্তি, স্বজনপ্রীতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফলে টিকেট পেতে যাত্রীদেরকে দিনে রাতে ১৮ থেকে ২১ ঘণ্টা অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছে।
এবছর প্রথমবারের মতো কমলাপুর ছাড়াও তেজগাঁও, বনানী, বিমানবন্দর ও ফুলবাড়িয়া নগর কাউন্টার থেকে রেলের আগাম টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। গত ২২ মে ২৯ মের আগাম টিকেট বিক্রির মাধ্যমে শুরু হয়েছিল কার্যক্রম। গতকাল রোববার শেষ দিনে দেওয়া হয়েছে ৪ জুনের আগাম টিকেট। সকাল সাড়ে ৯টায় তেজগাঁও স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফ্ল্যাটফর্ম ছাড়াও বাইরের রাস্তায় কয়েক সারি টিকেট প্রত্যাশী একাধিক লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, যারা আগের দিন বিকাল ৩টা থেকে অপেক্ষমাণ। দুটি কাউন্টারে পুরুষ যাত্রীদের জন্য এবং একটি কাউন্টারে নারী ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য টিকেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কাউন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টায় বিক্রি শুরু পর বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র ৬০টি টিকেট। সেই হিসাবে দেড় ঘণ্টায় প্রতিটি কাউন্টার থেকে গেছে মাত্র ৩০টি টিকেট। একেকজন ক্রেতার হাতে টিকেট তুলে দিতে সময় লেগেছে গড়ে তিন মিনিট। অবশ্য পুরুষ কাউন্টারে একজন কাউন্টারকর্মী জানান, কিছুক্ষণ পর পর সার্ভার গতিহীন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেক সময় ১০ মিনিটেও একটি টিকেট আসছে না। আর সার্ভার যখন ঠিক হচ্ছে তখন এক মিনিটেই একজন টিকেট প্রত্যাশীর হাতে টিকেট তুলে দেওয়া যাচ্ছে। ময়মনসিংহগামী হিরামন খান নামের এক যাত্রী  বলেন, শেষ দিনের টিকেট সংগ্রহ করতে গিয়ে আগের দিন বিকাল ৩টায় স্টেশনে এসে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। রাতে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের টোকেন দেওয়া হলে তিনি পান ৮০ নম্বর সিরিয়াল। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টায়ও অন্তত ২০ জনের পেছনে পড়ে আছেন তিনি। একেকজনকে টিকেট দিতে ৫/১০ মিনিট সময় খেয়ে পেলতেছে। গতকাল (শনিবার) বিকাল ৩টা থেকে এখানে অপেক্ষা করতেছি। পরিবারের লোকজন যাবে বলেই এত কষ্ট করা। শুধু নিজের জন্য হলে এত কষ্ট না করে দাঁড়িয়ে চলে যেতাম, বলেন হিরামন। 
তার মতো একই অভিজ্ঞতা হচ্ছে ৮০ নম্বর সিরিয়ালে থাকা জামালপুরগামী যাত্রী স্বাধীনের। মোখলেছ নামের আরেক যাত্রীর সিরিয়াল দেখা গেছে ৩৭৩ নম্বর।
বেলা ১২টার দিকে তিনি বলেন, এখন একশ সিরিয়াল পার হয়নি। এখন বিকাল ৪টার মধ্যে আমার সিরিয়াল আসবে কিনা সন্দেহ। এদিকে মহিলা কাউন্টারে সামনের অংশটি ঘিরে রেখেছেন স্থানীয় দালাল চক্র। তারা দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে টিকেট সংগ্রহ করে তা চড়া দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে অপেক্ষমাণদের অভিযোগ। এবিষয়েজানতে চাইলে জিআরপি পুলিশের এক সদস্য বলেন, “আমরা কয়েকজন মহিলাকে ধরেছি। তাদেরকে যাচাই করতে গিয়েই কাউন্টারে বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। তখনই মহিলাদের কাউন্টারেই আনসার সদস্যদের যাত্রীদের অনুরোধ রক্ষা করে বিনিময়ে টাকা নিতে দেখা গেছে। জিআরপি পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের ওসি রেজাউল বলেন, তিন কাউন্টার মিলে তাদের এক প্লাটুন কর্মী দায়িত্ব পালন করছে। তেজগাঁও স্টেশন মাস্টার এম এ আজিজ  বলেন, সার্ভারে গতি কমে যাওয়ার বিষয়টি কাউন্টার থেকে তাকে একবারও জানানো হয়নি। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সহ্য করে তারা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গত চার দিনে দৈনিক কতটি করে টিকেট বিক্রি করা গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার কাছে টাকার হিসাব আছে। ২২ মে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৫ টাকা, ২৩ মে ২৩ লাখ ৮ হাজার ১২৪ টাকা, ২৪ মে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ২৪৫ টাকা এবং ২৫ মে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৩ টাকার টিকেট বিক্রি হয়েছে।


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com