logo
আপডেট : ২৬ জুন, ২০১৯ ১৬:৫৭
আগামীকাল দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা হত্যার রায়
সিদ্দিকুর রহমান সুমন,মির্জাপুর (টাঙ্গাইল )প্রতিনিধি:

আগামীকাল দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা হত্যার রায়

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় স্বর্গীয় দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা রবিসহ সাতজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। বুধবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন। এর আগে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের এ মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী গাজি এম এইচ তামিম। এ মামলার একমাত্র আসামি হচ্ছেন ৭০ বছর বয়সী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার মাহবুবুর রহমান। যিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন মির্জাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ মাওলানার ছেলে। মাহবুবুর রহমান ও তার ভাই আব্দুল মান্নান তখন রাজাকার বাহিনীতে ছিলেন। মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা-গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ রয়েছে। এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়, ‘মাহবুবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মে মধ্যরাতে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২০-২৫ জন সদস্যকে নিয়ে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে রণদা প্রসাদ সাহা, তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা, রণদা প্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাখাল মতলব ও রণদা প্রসাদ সাহার দারোয়ানসহ ৭ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে সবাইকে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়। তাদের লাশ আর পাওয়া যায়নি।’ ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত শুরুর পর ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে ওই বছরের নভেম্বরে মাহবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এরপর চলে বিচারিক কার্যক্রম। অবশেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিষয়টি রায়ের জন্য আসে। আসামি মাহবুবুর রহমান এখন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আছেন। মানবসেবায় নিবিড় সম্পৃক্ত থাকায় ব্রিটিশ সরকার স্বর্গীয় রণদা প্রসাদ সাহা কে রায় বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করেন। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে সরকার তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রদান করেন। তিনি আর পি সাহা নামেও সমধিক পরিচিত। রণদা প্রসাদ সাহার পৈত্রিক নিবাস ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। সেখানে তিনি একাধিক শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। মির্জাপুরে তার মায়ের নামে গড়ে তোলেন কুমুদিনী হাসপাতাল।ব্যবসায়ী হিসেবে নারায়ণগঞ্জে পাটের ব্যবসা শুরু করেন ।থাকতেন নারায়ণগঞ্জের খানপুরের সিরাজদিখানে।


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com