গতকাল রোববার রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর দূতাবাস ও চেকপোস্ট সিসি নং-১২৪৭৮/১৯ মূলে সকাল সাড়ে ৬ ঘটিকা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত গুলশান থানাধীন চেকপোস্ট-৩ (গুদারা ঘাট) এলাকায় মামলায় উল্লেখিত ধৃত আসামী প্রশান্ত মন্ডল (কং/১৭১১) বিপি-৯৭১৭১৯৯৫৫৭, মাসুদ আহমেদ মিয়াজি (এএসআই নিঃ/২৩৩৬৬) বিপি-৭৫৯৫০৮৭৬৫৬, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (নায়েক/১৩১১) বিপি-৯২১১৫৬২৬৭, মোঃ রনি মোল্লা (কং/১৭৮৩) বিপি-৯৮১৭১৯৯৫৬১, মোঃ শরিফুল ইসলাম (কং/১৬০২) বিপি-৯৬১৬১৮৭০৩৮ ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলো। ডিউটির পালা বদলের কিছুক্ষণ পূর্বে আনুমানিক দুপুর ১টার সময় একটি মোটর সাইকেল আরোহীকে থামার জন্য সিগন্যাল দেয় এবং তাকে তল্লাশী করার পর তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করার পরও পরষ্পর যোগসাজোশে তাকে ছেড়ে দেয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা থেকে ২০০ পিছ ইয়াবা এজাহারভুক্ত আসামী মাসুদ আহমেদ মিয়াজি এবং আসামী জাহাঙ্গীর আলম ১৫০ পিছ ইয়াবা নিজ হেফাজতে রাখে এবং পরবর্তীতে নিজেদের সুযোগ সুবিধামতো বিক্রয়ের জন্য তা সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত এসআই (নিঃ) মোঃ আবু জাফর জানতে পারেন, ১ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর ১ নং ব্যারাক ভবনের চতুর্থ তলার পশ্চিম পাশের বাথরুমে কতিপয় পুলিশ সদস্য ইয়াবা ট্যাবলেট ভাগ-বাটোয়ারা ও আলাপ আলোচনা করিতেছে। তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও আদেশক্রমে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উল্লেখিত স্থানে গমন করে পূর্বোল্লিখিত আসামী প্রশান্ত মন্ডল, মোঃ রনি মোল্লা ও মোঃ শরিফুল ইসলা কে পরষ্পর আলোচনা করতে দেখে। তাদেরকে তল্লাশীকালে আসামী প্রশান্ত মন্ডলের পরিহিত ফুলপ্যান্টের পকেট থেকে ১৫৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দমূলে উদ্ধার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে তার ব্যবহৃত ট্রাঙ্কে থাকা আরোও ৩৯৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের কথা বললে তা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। আটককৃত আসামী মোঃ শরিফুল ইসলামের হেফাজত থেকে ইয়াবা বিক্রয়লব্ধ ১৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, সে আসামী রনি মোল্লার কাছ থেকে ১৮ হাজার ৫ শত টাকায় ১৫০ পিছ ইয়াবা ক্রয় করে এবং ক্রয়কৃত ইয়াবাগুলো গাজীপুরের কোনাবাড়ীর আমবাগ মিতালী ক্লাব গ্রামের শাহীনের মাধম্যে, একই জেলার কোনাবাড়ীর নছের মার্কেট সাকিনস্থ মফিজের কাছে ১৫০ পিছ ইয়াবা বিক্রয় করে দেয়। এজাহারে উল্লেখিত ধৃত আসামীগণ ১ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এর সদস্য বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। জব্দকৃত ৫৫২ পিছ ইয়াবা (ওজন ৫৫ গ্রাম) যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১লক্ষ ৬৫ হাজার ছয়শত টাকা। ধৃত আসামীদের ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর ১০ (ক) ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।