ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেরাইদ (৪২ নং ওয়ার্ড) ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার দাবী জানানো হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পাঠানো আবেদনপত্রটিতে স্বাক্ষর করেছেন ৪২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাশেদ। উক্ত আবেদনপত্রটিতে ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের আরোও ১০৪ জন নেতা সই করেছেন। আবেদন পত্রে দাবী ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘আমাদের প্রিয় ত্যাগী নেতাকে দলের প্রাথমিক পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা ৪২ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতারা তাঁর নের্তৃত্বে ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে দলীয় নির্বাচন পরিচালনা করি। এ ওয়ার্ডের ধানের শীষের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ২ হাজার তিনটি ভোট পান। আমাদের প্রশ্ন ধানের শীষ যেখানে এতগুলো ভোট পায়, সেখানে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তুহিনুর ইসলাম তুহিন কেনমাত্র ৩৭০টি ভোট পেয়েছেন? বিএনপির কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর আঁতাত থাকায় তিনি এত কম ভোট পেয়েছেন। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির একটি কুচক্রীমহল মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য দিয়ে তাঁকে বহিষ্কার করার ষড়যন্ত্র করে। তৃণমূল পর্যায়ে যদি এমন ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে নের্তৃত্বর শূন্যতা বিরাজ করবে। যা আমাদের মোটেও কাম্য নয়। দলীয় স্বার্থে আমরা এমন ষড়যন্ত্রের অবসান ও প্রতিকার চাই।’ স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে এ নিয়ে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরীকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির একাধিক নেতা এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানায়, মাহফুজুর রহমান এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। তাঁর মতো একজন ত্যাগী, নিবেদিত নেতা যে এখনও দলের জন্য প্রায় অর্ধ ডজন মামলা নিয়ে কোর্টে হাজিরা দিচ্ছেন, ষাট বছর বয়সের প্রায় ৩৮ বছর যাবৎ যিনি বিএনপির জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাকে যদি পুনরায় দলে ফিরিয়ে নিয়ে আসা না হয়, তাহলে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঢাকা উত্তর মহানগরে বিএনপির মতো একটি সফল রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাকর্মীর মাঝেই হতাশা দেখা দিতে পারে, যা দলের জন্য আদৌ কোনও ভালো ফল বয়ে আনবে না। তারা উষ্মা প্রকাশ করে আরও জানান, বিগত ঢাকা-৫ আসন থাকা কালেও তিনি কখনও কোন প্রলোভন কিংবা কোনও রক্তচক্ষুর ভয়ে ভীত হয়ে, আওয়ামী লীগের সাথে গোপনে হাত মিলিয়ে, দলের সাথে বেঈমানী করেননি। দলের স্বার্থেই প্রয়োজনে পুনরায় মাহফুজুর রহমান সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত, অতীত ইতিহাস, রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক। বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের জুড়ি মেলা ভার বলেও জানায় তারা।