নড়াইলে করোনা নমুনা সংগ্রহ সংকটের সমাধানে আবারও এগিয়ে এলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা। এজন্য মাশরাফির সংগঠন নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় জেলার তিন উপজেলায় ১০জন বেসরকারি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্যবিভাগ, নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন এবং বেসরকারি ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাব মালিক সমিতির এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় এছাড়া করোনা নমুনা সংগ্রহ এবং ল্যাবে পাঠানোর কাজ আরও গতিশীল করতে জেলা প্রশাসনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নমুনা সংগ্রহে প্রয়াজনীয় এ্যাম্বুলেন্স, জ্বালানিতেলসহ আনুষঙ্গিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্তও হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আনজুমান আরার সভাপতিতে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আবদুল মোমেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সুব্রত কুমার, কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজল মল্লিক, নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক তরিকুল ইসলাম অনিক, বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্যাথলজি মালিক সমিতির সভাপতি বিদ্যুৎ কুমার সান্যাল প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ও নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শামীমূল ইসলাম টুলু, ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ মির্জা নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজ খান মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শহীদুল্লাহ হলের ভিপি হোসাইন আহম্মেদ সোহান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান মুকুল প্রমুখ।
সভায় নড়াইল-২ আসনের এমপি এবং নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি ক্রিকেট তারকা মাশরাফি বিন মুর্তজা ভিডিওকলের মাধ্যমে সভায় মিলিত হন।
এসময় মাশরাফি বিন মর্তুজা করোনা নমুনা সংগ্রহে বেসরকারি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ানদের এগিয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত এলাকা লকডাউন করে তাদের ঠিকমতো চিকিৎসা, খোঁজ-খবর এবং প্রয়োজনে খাবার দেবার ব্যবস্থা নেবার কথা বলেন তিনি।
জানা গেছে, জেলায় করোনা নমুনা সংগ্রহে অভিজ্ঞ মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) ৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৪ জন। এর মধ্যে একজন অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে রয়েছেন। কালিয়া উপজেলায় ৩টি পদের সবকটি শূন্য। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি পদের মধ্যে একটিই শূন্য। লোহাগড়া উপজেলায় দুটি পদের মধ্যে একজন অসুস্থতার করণে ছুটিতে রয়েছেন।
এ অবস্থায় সারা জেলায় প্রতিদিন প্রয়োজন অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। ফলে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে এই সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এ সংকট মেটাতে মাশরাফি নিজ থেকেই বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন।