logo
আপডেট : ১৫ জুন, ২০২০ ২২:২২
হাসপাতালে চিকিৎসায় অনীহা, মৃত্যু হলে ফৌজদারি অপরাধ

হাসপাতালে চিকিৎসায় অনীহা, মৃত্যু হলে ফৌজদারি অপরাধ


নিজস্ব প্রতিবেদক
কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ কোনো রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদানে অনীহা দেখালে এবং এতে ওই রোগীর মৃত্যু ঘটলে ‘তা অবহেলাজনিত মৃত্যু’ অর্থাৎ ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।
দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে প্রদত্ত নির্দেশনা (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের) যথাযথ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ রিকুইজিশন এবং ‘সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো’ স্থাপন, ৫০ শয্যা বা তার বেশি শয্যার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড ও সাধারণ রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু এবং রাজধানী ঢাকায় দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে করা তিনটি রিটের শুনানির পর কিছু নির্দেশনা ও অভিমত দিয়ে এ আদেশ দেন আদালত।
আদালতে রিটগুলোর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান, আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল ও মেহেদী হাসান।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অবন্তী নূরুল।
আইসিইউতে চিকিৎসাধীন কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক যেন মাত্রাতিরিক্ত বা অযৌক্তিক ফি আদায় করতে না পারে সেজন্য নজরদারির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে আদেশ।
এছাড়াও অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রিতে মনিটরিং জোরদার করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা ও রি-ফিলিংয়ের মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দিয়ে আদেশে আদালত বলেছে, সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিষ্ঠান/দোকানে প্রদর্শন করতে হবে।
গত ১১ মে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে সাধারণ (নন-কোভিড) রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত দুটি নির্দেশনা জারি করে।
এছাড়াও ৫০ শয্যা বা তার বেশি শয্যা বিশিষ্ট সরকারি, বেসরকারি হাসপতালে কোভিড ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্য পরে গত ২৪ মে আরেকটি নির্দেশনা জারি করে।
এ তিনটি নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে আদালত আদেশে বলেছে, এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না তা জানিয়ে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রতিবেদন দিতে হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এসব নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলেছে আদালত।
এছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫০ শয্যা বা তার বেশি শয্যার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে সোমবার নাগাদ কত জন কোভিড-১৯ রোগী এবং সাধারণ রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে সে প্রতিবেদনও ৩০ জুনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।
কোনো হাসপাতালে আইসিইউতে কতজন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং কতটি আইসিইউ শয্যা কী অবস্থায় আছে, তার সর্বশেষ অবস্থা প্রতিদিনের প্রচারিত স্বাস্থ্য বুলেটিন ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।
আইসিইউ ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং সেলে ভুক্তভোগীরা যাতে সহজেই যোগাযোগ করতে পারে সেজন্য ‘আইসিইউ হটলাইন’ নামে আলাদা একটি হটলাইন চালু করতে হবে। হটলাইন নম্বর প্রতিদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ করে টেলিভিশন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।
এছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে কি না, সে বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিন পর পর একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৫ দিন পর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আদালতে প্রতিবেদন দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com