যশোরের ঝিকরগাছায় গত 'অস্বাভাবিক' ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, তারা বাড়িতে মারা গেছে। স্বজনরা দাবি করছেন, অসুস্থ হয়ে মৃত্যু।
সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু করে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়। অপরদিকে একই সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন ভর্তি হয়েছেন, যাদের সকলে অ্যালকোহলিক বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আবুল গাজীর ছেলে হাবিল গাজী (৬০), বর্নি গ্রামের সুরত আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), হাজিরালী গ্রামের মৃত গহর আলীর ছেলে আসমত আলী (৫০), পুরন্দরপুর গ্রামের মৃত ফকির ধোপার ছেলে হামিদুর রহমান (৫৫), রাজাপুর গ্রামের আলফাজের ছেলে নুর ইসলাম খোকা (৫৫) এবং ঋষিপাড়ার মৃত রসিকলালের ছেলে নারায়ণ (৫৫)।
অল্প সময়ের মধ্যে এতো মানুষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার রাতে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেজবাউর রহমান, সেকেন্ড অফিসার এসআই দেবব্রত দাসসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা মৃতদের বাড়ি যান। মৃতরা সবাই হৃদরোগে মারা গেছেন বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন। ওই সময় তারা হাসপাতালের ছাড়পত্রও দেখান।
ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি মৃতদের বাড়ি থেকে ঘুরে এসেছি। তারা সবাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে আত্মীয়-স্বজনরা বলেছে। সেই মর্মে তারা মেডিকেল ছাড়পত্রও দেখিয়েছে। ডাক্তার যদি হৃদরোগে মৃত্যুর ছাড়পত্র দেন, তাহলে আমি কীভাবে বলি তারা বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে মারা গেছে?
তবে মৃতদের মধ্যে হাবিল মদের কারবারি ছিলেন বলে নিশ্চিত করেন থানার ওসি। কয়েক মাস আগে তাকে এই কারণে গ্রেপ্তারও করা হয়।
ঝিকরগাছা উপজেলার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এসকে রাজিবুল ইসলাম বলেন, ওই ছয়জনের মধ্যে কেউ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যায়নি। তবে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া তিনজনকে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসাধীন ওই ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার কাউরিয়া গ্রামের রিপন দাস (৪০), রাজাপুর গ্রামের কিশোর কুমার (৩২) ও হাজিরালী গ্রামের সেলিম হোসেন (৩৪)। তবে সেলিম রাতে পালিয়েছে বলে ওই চিকিৎসক জানান।
এছাড়া একই কারণে অসুস্থ মাধব দাস (৪০) নামে একজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার বাড়ি রাজাপুর গ্রামে।
অসুস্থ রিপন দাসের ছেলে বিষ্ণু দাস ও কিশোর কুমারের স্ত্রী সীতা রাণী দাস বলেন, মৃত ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সোমবার সকালে উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামের জলিল সরদারের ছেলে মিন্টুর কাছ থেকে মদ কিনে পান করেছিলেন।
মৃতদের মধ্যে সোমবার রাতে মারা যান খোকা, হামিদুর ও নারায়ণ। রাতারাতি তাদের দাফন ও সৎকার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে মারা যান হাবিল গাজী, ফারুক ও আসমত আলী।
গত এপ্রিল মাসে যশোর সদর ও শহরতলী, মণিরামপুর এবং চৌগাছা উপজেলায় বিষাক্ত বা ভেজাল মদপানে ১৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়। ওই সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যশোর শহরের পতিতালয় এলাকার হাসান নামে এক মদের কারবারির দোকানে অভিযান চালিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অবৈধ মদের কারবারি হাসানের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাসহ পাঁচটি মামলাও হয় সেই সময়।