স্বাস্থ্য খাতে মাফিয়া ডন বলে খ্যাত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর দৌরাত্ম্য থামছেই না। তার লাগামহীন দুর্নীতি ও জালিয়াতির তদন্ত মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। চার বছর ধরে এ বিষয়ে টুঁ-শব্দটি নেই। এমনকি দুদকের সুপারিশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ঘোষিত ‘কালো তালিকাভুক্ত ১৪ ঠিকাদারের’ মধ্যেও তার নাম নেই। চুনোপুঁটিদের ‘কালো তালিকায়’ রেখে কার ছত্রছায়ায় বারবার বেঁচে যাচ্ছেন মিঠু তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলে।
এবার নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের 'মিঠু সিন্ডিকেটের' বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। মিঠু সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়ার কথা বলেছেন তিনি। যা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এমপি একরামুল করিম বলেন, আজকে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং ফেনী- এই তিন ডিস্ট্রিকের করোনা পরীক্ষা বন্ধ কিটের অভাবে। কিটের অভাবে পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে একটা হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আজগুবি বিভাগ বলেছিলাম দুই/তিন দিন আগে। কিন্তু এটা আজগুবি নয়, এটা মহা আজগুবি বিভাগ। আমাকে একজন বললেন- আজকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিজেই নাকি বলেছেন কিটের অভাব। কিন্তু আমার জানামতে বাংলাদেশের তিনটা চারটা ব্যবসায়ী কোম্পানি প্রায় ১০ লাখ কিট এনে রেখেছে। কিন্তু তারা দিতে পারছে না মিঠু সিন্ডিকেটের কারণে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের 'মিঠু সিন্ডিকেট' যতক্ষণ পর্যন্ত ভাঙ্গা না যাবে, এই মন্ত্রণালয় কখনো ভালো থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো তিন দিনে যেভাবে ক্যাসিনোকে ধ্বংস করেছেন আপনি, মানুষের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে গেছেন আমি আপনার কাছে অনুরোধ করবো, স্বাস্থ্য সেবার একজন কর্মী হিসেবে, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনি এই সিন্ডিকেটটা ভাঙ্গার ব্যবস্থা করুন। এই সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে পারলে দেশের মানুষ অনেক সুফল পাবে। এই মিঠু গ্যাংরা গোটা স্বাস্থ্য বিভাগকে কাবু করে রেখেছে।
একরামুল করিম বলেন, প্রাণের স্পন্দন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আমার মাথার মুকুট আওয়ামী লীগসহ প্রত্যেকটি সংগঠন নোয়াখালীর প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করুন এবং করোনা বিরোধী সংগ্রাম কমিটি গঠন করুন। প্রয়োজনে বিরোধী দলের কেউ যদি আসতে চায় তাদের কেউও নিয়ে নিন। এবং যে বাড়িতে করোনা আক্রান্ত সে সব বাড়িতে লাল পতাকা এবং সাইনবোর্ড টানিয়ে দিন।
এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবারও এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়ার অনুরোধ জানান।