logo
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২০ ১২:৫৯
চট্টগ্রামের শীর্ষ ১০ হাসপাতালে করোনারোগী মাত্র ৯১, শুভঙ্করের ফাঁকি

চট্টগ্রামের শীর্ষ ১০ হাসপাতালে করোনারোগী মাত্র ৯১, শুভঙ্করের ফাঁকি


অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামে মঙ্গলবার যখন করোনারোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৬ হাজার ৬৯৭ জনে, ঠিক ওইদিন পর্যন্ত চট্টগ্রামের প্রধান ১০টি বেসরকারি হাসপাতালে ঠাঁই পেয়েছে মাত্র ৯১ জন করোনা রোগী। তবে এই সংখ্যাকেও ‘অতিরঞ্জিত’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসাখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই। তারা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা তদারকির জন্য সার্ভেইল্যান্স টিম ওই হাসপাতালগুলো পরিদর্শনে গেলে বাস্তবে এই সংখ্যক করোনা রোগীও সেখানে পাওয়া যাবে না।
দেখা গেছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল পর্যন্ত করোনা রোগী ভর্তি ছিল ইউএসটিসি হাসপাতালে সর্বাধিক ২৪ জন, আগ্রাবাদের চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ১৮ জন, সার্জিস্কোপ-পার্কভিউ ও সিএসসিআর হাসপাতালে ৯ জন করে ২৭ জন, মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৬ জন, ম্যাক্স হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারে ৫ জন করে ১০ জন, ন্যাশনাল হাসপাতালে ৪ জন এবং ডেল্টা হসপিটালে মাত্র দুজন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন।
সবমিলিয়ে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় এই ১০টি হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মাত্র ৯১ জন রোগী ভর্তি আছেন বলে হাসপাতালগুলো জানিয়েছে। অথচ এর মধ্যে নয়টি হাসপাতালেই বেড রয়েছে ৬৭৩টি। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্যন্ত এর মধ্যে প্রায় দেড়শো সিট খালি রয়েছে। কিন্তু কাগজেকলমে এমন সংখ্যা লেখা হলেও বাস্তবচিত্র ভিন্ন।
চিকিৎসাখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলছেন, বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতালেই পর্যাপ্ত পরিমাণ সিট খালি রয়েছে। আইসিইউ বেডও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খালিই থাকে। কিন্তু করোনা রোগী তো দূরের, সর্দিকাশির উপসর্গ নিয়ে গেলেও বাইরে থেকেই রোগী তাড়িয়ে দেওয়া হয়- এমন অভিযোগ মিলছে প্রতিদিনই।
করোনা রোগী নেওয়ার ভয়ে চিকিৎসকের অসুস্থতা ও নার্স-চিকিৎসক স্বল্পতার অজুহাতে রীতিমতো আইসিইউ ওয়ার্ডই বন্ধ রেখেছে ওআর নিজাম রোডের সিএসসিআর ও রয়েল হসপিটাল এবং কাতালগঞ্জের ডেল্টা হসপিটাল। ব্যবসা হারানোর ভয়েই মূলত বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা রোগী ভর্তি করে না- এমন অভিযোগ রয়েছে করোনাকালের শুরু থেকেই। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা তদারকির জন্য সার্ভেইল্যান্স টিম গঠন করা হলেও এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উন্নতি দেখা যায়নি।
আটটি হাসপাতালই জোর গলায় দাবি করেছে, তাদের হাসপাতালে কোনো রোগী ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে পাঁচলাইশের পার্কভিউ হাসপাতাল মঙ্গলবার (২৪ জুন) চারজন রোগী ফিরিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছে, উপসর্গ থাকা রোগীদের জন্য বরাদ্দ বেড খালি না থাকায় ওই রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন হাসপাতালও ওই একদিনেই তিনজন রোগী ফিরিয়ে দিয়েছে একই কারণ দেখিয়ে। তবে রোগী ফিরিয়ে দেওয়ার এটা অফিসিয়াল হিসাব, বাস্তবচিত্র নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন।


প্রকাশক/সম্পাদক: আবুল হারিস রিকাবদার
প্রকাশক ও সম্পাদক কর্তৃক প্রথম বাংলাদেশ/শিবপুর, নরসিংদী থেকে প্রকাশিত
ফোনঃ বার্তা-০১৭০০-০০০০০০, বিজ্ঞাপন-০১৯০০-০০০০০০, ই-মেইলঃ prothombangladeshnews@gmail.com