ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
আপডেট : ২৯ আগস্ট, ২০১৮ ১১:২১

২০২২ সালে মহাকাশে নভোচারী পাঠাবে ভারত

ভোরের বাংলা ডেস্ক
২০২২ সালে মহাকাশে নভোচারী পাঠাবে ভারত

গত ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ঘোষণা অনুযায়ী এবার মহাকাশে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। চার বছরের মধ্যে তারা তিন নভোচারীকে মহাকাশে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে নভোচারীদের মহাকাশে পাঠানো হবে বলে ইসরোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। আর এটি করতে পারলে নভোচারী পাঠানোয় রাশিয়া, আমেরিকা ও চীনের পর চতুর্থ দেশ হবে ভারত।

ইসরোর চেয়ারম্যান কে সিভন বলেন, 'চার বছর পর শ্রীহরিকোটার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে মহাকাশযানটি ছাড়া হবে। তাতে থাকবেন তিন জন নভোচারী। উৎক্ষেপণের ১৬ মিনিটের মাথায় মহাকাশযানটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০০-৪০০ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছে পৃথিবীকে পাক খাওয়া শুরু করবে। সে জন্য ব্যবহার করা হবে ভারতের নিজস্ব জিএসএলভি এম কে-থ্রি রকেট।'

ইসরো জানিয়েছে, পৃথিবীকে ঘিরে মহাকাশযানের যে 'অরবাইটাল মডিউলটি' পাক খাবে তাতে দুটি অংশ থাকবে। একটিতে মহাকাশচারীরা থাকবেন। সেটির নাম 'ক্রু মডিউল'। যা যুক্ত থাকবে 'সার্ভিস মডিউল' এর সঙ্গে। ৫-৭ দিন মহাকাশচারীরা মহাকাশে থাকবেন।

ইসরো জানিয়েছে, মহাকাশযান ফিরিয়ে আনার পদ্ধতিটি সবচেয়ে কঠিন। নাসার অভিযাত্রী কল্পনা চাওলার 'কলম্বিয়া' মহাকাশযানটি পৃথিবীতে ফেরার পথে 'হিট শিল্ড' এ সমস্যা হওয়ায় বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে আসতেই সেটি জ্বলে যায়। এ কারণে ইসরোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেরার জন্য ইঞ্জিন চালু হওয়ার পরেই মহাকাশচারীদের (ক্রু) মডিউলটি ১২০ কিলোমিটার উচ্চতায় সার্ভিস মডিউল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর পর মাধ্যাকর্ষণের টানে ক্রু মডিউলটি সোজা ভূপৃষ্ঠের দিকে নেমে আসবে। যানটির গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হবে স্বয়ংক্রিয় ব্রেক।

সিভন বলেন, 'প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে মহাকাশচারীরা নামবেন গুজরাতের কাছে আরব সাগরে। মহাকাশযানটি জল ছোঁয়ার আগে সেটিকে গতিশূন্য করতে ব্যবহার করা হবে প্যারাশুট। সমান্তরালভাবে বঙ্গোপসাগরেও অবতরণের বিষয়টিও ভাবা হয়েছে।'

মোট তিনটি ভাগে এই প্রকল্প সম্পন্ন করবে ইসরো। খরচ হবে মোট দশ হাজার কোটি রুপি। শুরুতে একই ধাঁচের দুই মহাকাশযান পাঠিয়ে সেটিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে তাতে কোনো নভোচারী থাকবে না। দুটি মিশন পুরোপুরি সফল হলে ৪০ মাসের মাথায় তৃতীয় মহাকাশযানে তিন জন নভোচারীকে মহাকাশে পাঠানো হবে। এরই মধ্যে মহাকাশচারীদের স্পেস স্যুট প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরো।

উপরে