চীনের সমালোচনার কারণেই ‘নিখোঁজ’ জ্যাক মা
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বিশ্ব বিখ্যাত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। চীন সরকারের সমালোচনার কারণেই তিনি নিখোঁজ রয়েয়েছন বলে ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংবাদমাধ্যম জাস্ট আর্থ নিউজের খবরে বলা হয়, গত বছরের অক্টোবরে চীনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন জ্যাক মা। চীনের রাজধানী সাংহাইয়ে দেওয়া ভাষণে জ্যাক মা বলেছিলেন, চীনে ‘ব্যাংকি বাস্তুতন্ত্রের’ ঘাটতি রয়েছে। সরকারের কর্মকর্তারা সুদখোরের মতো কথা বলেন। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নানা নীতিরও সমালোচনা করেন তিনি। জ্যাক মার মতে, চীনে ব্যাংকগুলো যেভাবে চলছে, তাতে সময়ের সঙ্গে তাল মেলানো যায় না। এজন্য ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
জ্যাক মার ওই বক্তব্যকে ভালোভাবে নেয়নি চীন সরকার। এর পরপরই আলিবাবার নানা ব্যবসার ওপর বিধিনিষেধ আসতে শুরু করে। কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত সরকারের সমালোচনা করায় তিনি সরকারের চক্ষুশুল হয়ে ওঠেন।

গত বছরের ২ নভেম্বর সিনহুয়ার অফিশিয়াল উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ কলাম পোস্ট করার পর জ্যাক মাকে তলব করে চীনা কর্তৃপক্ষ। যদিও ওই নিবন্ধে জ্যাক মার কোনো কিছু উল্লেখ ছিল না। লেখাটির শিরোনা ছিল, ‘চিন্তা ভাবনা করে বলবেন না, নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করবেন না, লোকজন তাদের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করতে পারছে না।’ লেখাটির সঙ্গে জাপানের প্রয়াত চিত্রশিল্পী কালি হিগাশিয়ামার ছবি ছিল। ১৯৭২ সালে আঁকা এ ছবির শিরোনাম ‘ফ্লেচি ক্লাউডস’। ছবিটিতে দেখা যায়, সাদা মেঘ উড়ে যাচ্ছে, যা ঘোড়ার মতো দেখতে।
জ্যাক মার চীনা নাম ‘মা উন’। চীনা ভাষায় মা মানে ঘোড়া আর উন মানে মেঘ। তাই ওই ছবিকে আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতাকে বোঝাতেই ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
জ্যাক মার নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে দুই বছর আগেই এক চীনা বিলিয়নিয়ার তার দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যত বাণী করেছিলেন। গুও ওয়েনগুই নামের ওই ব্যবসায়ী যিনি মাইলস কোওক নামে পরিচিত। ওই ব্যবসায়ী বলেছিলেন, জ্যাক মা কারাগারে যেতে পারেন এবং কারাগারে তার মৃত্যু হতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি তিনি (জ্যাক মা) দুইভাবে হারিয়ে যেতে পারেন। চীনের সকল বিলিয়নিয়ার শুধুমাত্র দুইভাবে, এক সপ্তাহ কারাদণ্ড এবং অন্য সপ্তাহে আপনাকে হত্যা।’

জ্যাক মা চীনের প্রথম ব্যবসায়ী নন, যিনি চীন সরকারের ক্রোধের শিকার হয়েছেন। গত মার্চেও রিয়েল স্টেট ব্যবসা থেকে অবসর গ্রহণ করা ধনকুবের নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি করেনাভাইরাস মোকাবিলায় শি জিনপিং সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) বিরুদ্ধে করোনা সংক্রমণ বিষয়ক তথ্য গোপন করার অভিযোগ করেছিলেন। জিকিয়াং নামের ওই ব্যবসায়ী পরে ১৮ বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হন।
