ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:২২

বিএনপি নেতার লাশ: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ

ভোরের বাংলা ডেস্ক
বিএনপি নেতার লাশ: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ

যশোরের বিএনপি নেতা আবু বকর আবু নিখোঁজের তিন দিন পর ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে যে মরদেহ মিলেছে, সেটিতে আঘাতের কোনো চিহ্ন আছে কি না, সেটি স্পষ্ট নয়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেহটি পচে-গলে যাওয়ায় তাতে কোনো দাগ দেখা যায়নি।

এখন পর্যন্ত পুলিশ বলতে পারছে না বিএনপি নেতার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তিনি ঠিক কখন মারা গেছেন। 

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সূত্র উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। 

গত ২০ নভেম্বর বিকালে বুড়িগঙ্গার তেলঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ২২ নভেম্বর রাতে নিহতের ভাতিজা হুমায়ূন কবির স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ডে) মর্গে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।

আবু এবার যশোর-৬ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দলে সাক্ষাৎকার দিতে ঢাকায় আসেন ১২ নভেম্বর। আর ১৮ নভেম্বর তিনি নিখোঁজ হন। আর দুই দিন পর দেখা মেলে মরদেহের।

মরদেহটির সুরতাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আক্কেল আলী। তিনি বলেছেন, ‘মরদেহটি পচে যাওয়ায় তা শনাক্ত করা খুবই কষ্টকর। মরদেহটির পরনে স্যান্ডো গেঞ্জি ও পাজামা ছিল।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মানুষের শারীরিক গঠনের ওপর নির্ভর করে তার পচে যেতে কত সময় লাগবে। যদি কেউ মোটা হয়, তাহলে দুই এক দিনের ভেতরে পচে যেতে পারে। শরীরের আঘাত দেখা যেতেও পারে আবার নাও পারে।’

এই চিকিৎসক জানান, দেহ কিছুটা পচে গেলেও শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত থাকলে তা দেখা যাবে। আর যদি কেউ কাউকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তাহলে ওই দাগ পচার কারণে দেখা নাও যেতে পারে। তবে সেটা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধরা পড়ে।
বিএনপি নেতা আবুর ময়নাতদন্ত হয়েছে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে। তবে যিনি ময়নাতদন্ত করেছেন, তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

আবু পল্টন এলাকার মেট্রোপলিটন হোটেলের চতুর্থ তলায় ৪১৩ নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন। ১৮ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে একটি মোবাইল ফোন থেকে কেশবপুরে তার এক ভাগ্নের কাছে কল করে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আর পরদিন সকালে অপহরণকারীদের দেওয়া বিভিন্ন নম্বরে দেড় লাখ টাকা বিকাশ করা হয়। পরে তাদের চাহিদা অনুযায়ী আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর থেকে অপহরণকারীদের সব মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

ঢাকায় অবস্থানরত আবু বকরের ভাতিজা হুমায়ূন কবির জানান, তার চাচা নিখোঁজের ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। এরপর পুলিশ হোটেলে গিয়ে সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘গত ২০ নভেম্বর আমার থানায় এ ঘটনায় একটি অভিযোগ করেছিল তার পরিবারের সদস্যরা। তবে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায়। এ ঘটনায় ওই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। তাই আমরা ওই অভিযোগের সব কাগজপত্র দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি।’

জানতে চাইলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ জামান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছি। সেটি আমরাও তদন্তও করছি। তবে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার আগে শাহবাগ থানায় আবু বকর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। ওই অভিযোগের তদন্ত করছে শাহবাগ থানার পুলিশ।’

আবুর মরদেহ শনাক্তের পর বৃহস্পতিবারই তাকে নিজ এলাকা যশোরের কেশবপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

উপরে