আপডেট : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:১৭
শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না: ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। জামায়াতে ইসলামীর হাতে দেশ কখনো নিরাপদ নয়, কারণ তারা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ফাড়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঠাকুরগাঁওকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অতীতে যেভাবে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে বড় হয়েছি, ভবিষ্যতেও সেভাবেই থাকতে চাই। ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে আমি আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, আইটি ট্রেনিং সেন্টার এবং মেয়েদের জন্য নার্সিং ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ স্থাপনেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিগত নির্বাচনের স্মৃতিচারণ করে ফখরুল বলেন, ২০১৮ সালে আগের রাতেই ভোট হয়ে গিয়েছিল, তাই আমরা কাজ করতে পারিনি। কিন্তু এবার একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা জনগণের সেবা করতে চাই।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ৫০ লাখ মায়ের জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড' করা হবে, যার মাধ্যমে নিত্যপণ্য কেনা সহজ হবে। কৃষকদের জন্য 'কৃষি কার্ড' প্রবর্তন করা হবে, যাতে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচ সুবিধা পাওয়া যায়। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। নারীদের এনজিও ঋণের কিস্তির দায়িত্ব এক বছরের জন্য সরকার গ্রহণ করবে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে ১ কোটি বেকারের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।
জামায়াতের এমপি প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ব্যক্তি সমালোচনা করার আগে নিজের অবস্থান বুঝতে হবে। একাত্তরে জামায়াত পাকিস্তানিদের সঙ্গ দিয়ে এদেশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিল। তাদের মুখে বড় কথা মানায় না।
এ পথসভায় জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীসহ স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
